সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন
Headline :
আমি তোমার জম মালাকুল মউত আজরাইল। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। কালিহাতীতে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে মত বিনিময় সভা খুলনায় ১০০ পরিবারের মাঝে নাহিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মশারি বিতরণ এক পা হারিয়ে থমকে গেছে নন্দীগ্রামের কুমার অজিত পালের জীবন, ভাঙা ঘরে অনাহারে কাটছে পরিবার খুলনায় জাতীয় যুবশক্তির নতুন আহ্বায়ক কমিটির সংবাদ সম্মেলন ও পরিচিতি সভা গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহবুব আলী খানের জানাজা সম্পন্ন, সর্বস্তরের মানুষের ঢল সুন্দরবনে আত্মসমর্পণ করল আলিফ বাহিনীর ১৫ জলদস্যু কেশবপুর পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক অভিযান ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন কেশবপুর পৌর শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান ঢাকায় গ্রেফতার খুলনা আওয়ামী লীগ নেতা আলী আকবর টিপু

২০৩০ সালের মধ্যে ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে পারে বাংলাদেশ

মো: আল-মাহফুজ শাওন
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৬৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আকারের দিক থেকে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ।
কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট প্রকাশিত ‘দ্য ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার গ্লোবাল ইকোনমি ইন ২০৩০’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে আইএমএফের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক আকার তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালে বাংলাদেশের জিডিপি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে মালয়েশিয়ার অর্থনীতির আকার ৬৭২ দশমিক ৫ বিলিয়ন, ভিয়েতনামের ৬৬৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন এবং থাইল্যান্ডের ৬৪৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। অর্থাৎ জিডিপির মোট আকারের বিচারে বাংলাদেশ এসব দেশের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ তালিকায় ডেনমার্কের অর্থনীতির আকার ২০৩০ সালে প্রায় ৫৮৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে মূলত তাদের সম্ভাব্য জিডিপির আকারকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
শীর্ষে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অটুট থাকবে। ওই সময় দেশটির জিডিপি প্রায় ৩৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিগুলোর তালিকায় চীন, ভারত, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। পাশাপাশি জাপান, ফ্রান্স, ব্রাজিল, ইতালি ও কানাডাকেও বিশ্বের শীর্ষ ১০ অর্থনীতির তালিকায় থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কয়েকটি দেশের হাতেই বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় অংশ
প্রতিবেদনটিতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কয়েকটি বৃহৎ দেশের প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বের মাত্র পাঁচটি দেশ মিলে বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ উৎপাদন করে। এর মধ্যে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অংশই বৈশ্বিক অর্থনীতির এক-চতুর্থাংশের বেশি।
বিশ্ব অর্থনীতির এই কেন্দ্রীভূত কাঠামোর মধ্যেও এশিয়ার কয়েকটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগামী বছরগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০৩০ সালে ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বিশ্ব অর্থনীতি
আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির আকার প্রায় ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির মোট আকার ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির এই সম্প্রসারণের ধারায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবদানও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প ও সেবা খাতের বিকাশ এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে আইএমএফের এ ধরনের পূর্বাভাস ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, বৈদেশিক বাণিজ্য, মুদ্রাবাজার এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন হলে দেশগুলোর প্রকৃত জিডিপির আকারও পূর্বাভাসের তুলনায় কম-বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বাভাস অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক মানচিত্রে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page