মনিরামপুর প্রতিনিধি:
কলেজের খাতায় এখনো তিনি একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী। সামনে ছিল জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কিন্তু শেষ পরীক্ষার হলে আর বসা হলো না দীপ মন্ডলের (১৯)। তার আগেই থেমে গেল একটি তরুণ জীবনের পথচলা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের পাঁচকাটিয়া গ্রামে নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন স্বজনরা। দ্রুত অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
দীপ মন্ডল উপজেলার পাঁচকাটিয়া গ্রামের বিশ্বজিৎ মন্ডলের ছেলে। তিনি পাঁচবাড়িয়া কলেজের কারিগরি শাখার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তার একটি পরীক্ষা এখনো বাকি ছিল।
নিহতের পিসি স্বপ্না সরকার বলেন, “সন্ধ্যায় দীপ নিজ ঘরে ছিল। আমরা যে যার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে ঘরে গিয়ে দেখি, সে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। পরে দ্রুত তাকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু আর বাঁচানো যায়নি।”
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মৌসুমী ইয়াসমিন জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে দীপকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
দীপের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্বজন ও প্রতিবেশীরা বলছেন, এমন পরিণতি তারা কল্পনাও করেননি। কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে।