মোঃইসরাফিল ইসলাম
মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য যেন নিরাপদ হয়—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে যশোরের মণিরামপুরে অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে তিনটি বেকারিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার, ভুয়া উৎপাদনের তারিখ দিয়ে পণ্য বাজারজাতকরণ, মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) উপজেলার খেদাপাড়া ও রোহিতা ইউনিয়নের টেংরামারি ও রোহিতা বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন।
বুধবার দুপুরে উপজেলার টেংরামারি বাজারের মায়ের দোয়া বেকারি ও ফাহিমা ফুডস-এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় দেখা যায়, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না করেই বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করা হচ্ছে। ময়দার খামির উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় তাতে মাছি বসতে দেখা যায়। এছাড়া মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অননুমোদিত চীনা রঞ্জক, স্যাকারিন, অ্যাঞ্জেল পাউডারসহ বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
পরে রোহিতা বাজারের মেহেদি ফুড প্রোডাক্টস-এ অভিযান চালিয়ে আরও গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে পরদিনের (২৩ জুলাই) ভুয়া উৎপাদনের তারিখ ব্যবহার করে পণ্য প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ দিয়ে খাদ্য উৎপাদন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেকারিপণ্য প্রস্তুত এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের সত্যতা মেলে। এ অপরাধে একই আইনের ৫২ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
অভিযানকালে উপস্থিত উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক জানান, সংশ্লিষ্ট তিনটি বেকারিতে এর আগেও একাধিকবার সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ তা আমলে না নিয়ে আগের মতোই স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখে। ফলে জনস্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন বলেন, “খাদ্য নিয়ে কোনো ধরনের প্রতারণা বা মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করার সুযোগ নেই। সামান্য লাভের আশায় কেউ যদি জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীর নৈতিক দায়িত্বও। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও আরও জোরদারভাবে চলবে।”