মো: আল-মাহফুজ শাওন , খুলনা
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও জনসম্মুখে উপস্থিতি জানান দেওয়ার অপচেষ্টা প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি)। এরই ধারাবাহিকতায় খাবার বিতরণের মাধ্যমে কথিত সাংগঠনিক তৎপরতার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের তিন সদস্য ১০ প্যাকেট তেহারী কিনে নগরীর খালিশপুর আবু নাসের মোড়, গোয়ালখালির মোড় এবং দৌলতপুর থানাধীন লেকভিউ রেস্টুরেন্টের সামনে কয়েকজনকে জড়ো করে খাবার বিতরণ করেন। পরে ওই খাবার বিতরণের ছবি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবি পুলিশের নজরে আসার পর দৌলতপুর থানা পুলিশ সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে অভিযান চালায়। একপর্যায়ে খাবার বিতরণে জড়িত তিনজনের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—দৌলতপুরের পাবলা কারিকর পাড়ার কাজী মুন্সির ছেলে পারভেজ হাসান (২৯) এবং পাবলা কেশবলাল রোডের কবির বটতলা এলাকার মো. কামরুজ্জামানের ছেলে মো. সাব্বির হোসেন সৈকত (২৮)। পুলিশ তাদের দুজনকেই সাবেক ছাত্রলীগ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পুলিশের ভাষ্য, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাতে খাবার বিতরণ এবং এর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমকে দৃশ্যমান করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি তৎপরতায় ওই প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কেএমপি।
এ ঘটনায় ‘অপু’ নামে আরও একজন জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কেএমপি জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের নামে বা তাদের পক্ষে আইনবিরোধী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরীতে নজরদারি ও পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নয়, সংঘটিত অপরাধ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিই বিবেচনায় নেওয়া হবে।