মোঃইকরামুল হাসান
বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরাঃ
মাগুরার শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্বামী রাব্বি মণ্ডল (৩৫)-কে ধারালো দা দিয়ে গলায় কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী ফারজানা বেগমের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফারজানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দা-ও উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আমতৈল এলাকা থেকে ফারজানা বেগমকে হেফাজতে নেয় শ্রীপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর (মৃধাপাড়া) গ্রামের নিজ শয়নকক্ষ থেকে রাব্বি মণ্ডলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে রাব্বি মণ্ডল বাড়িতে ফিরে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে তার গলায় কোপ দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার **মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা** ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ **ওলি মিয়ার** নেতৃত্বে সিসিআইসি ও থানা পুলিশের একটি দল অভিযুক্ত ফারজানা বেগমকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ফারজানা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহ চলছিল। স্বামী স্ত্রী-সন্তানের যথাযথ দেখাশোনা করতেন না এবং সময়মতো বাড়িতে ফিরতেন না—এমন অভিযোগ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হতো।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিরোধের জেরে ফারজানা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী রাব্বি মণ্ডলকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।