মাগুরা প্রতিনিধি:
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া বাজারে মালিকানা নিয়ে বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে রাতের আঁধারে ইটের দেয়াল নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একই জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে তাদের দাবি করা সম্পত্তিতে আগে থেকে ঢালাই করা কলামের ওপর নতুন করে ইটের দেয়াল নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় দুখু মিয়া ও কবির হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন তারা।
ঘটনার পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর মো. জামাল হোসেন বাদী হয়ে মহম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে জমিতে দেয়াল নির্মাণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাঙ্গাপাড়া বাজারের ওই সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে মো. বাকি বিল্লাহ, মো. কামাল হোসেন ও মো. জামাল হোসেন—এই তিন ভাইয়ের সঙ্গে দুখু মিয়া ও কবির হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
এদিকে, ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এ সময় দুখু মিয়া প্রতিপক্ষকে পুনরায় মারধরের হুমকি দেন। তবে এ বক্তব্যের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত ২২ সেপ্টেম্বর মহম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন মো. জামাল হোসেন। জিডি নম্বর ১০৪৮।
জিডিতে জামাল হোসেন অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন তিনি বাজারে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এছাড়া তিনি ও তার দুই ভাই কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে বাড়িতে থাকা নারী সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগে মো. কামাল হোসেনের ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, রাতের সময় বিরোধপূর্ণ জমিতে দ্রুত দেয়াল নির্মাণের কাজ করা হয়েছে। তবে দেয়াল নির্মাণের বৈধতা, জমির মালিকানা ও দখলের অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট আদালত ও আইনগত কর্তৃপক্ষের।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম শামীম আহমেদ বলেন, “ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধ যেহেতু স্পর্শকাতর, তাই আদালতের মাধ্যমে প্রসিকিউশনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা কোনো সংঘাত বা সহিংসতায় জড়াতে চান না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ, বিরোধপূর্ণ স্থাপনা নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত দুখু মিয়া ও কবির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তাদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।