মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন
Headline :
বসতবাড়ি ও আবাসিক ভবন থেকে দুটি পদ্মগোখরা উদ্ধার, নিরাপদে অবমুক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধে ভোলায় সচেতনতামূলক আলোচনা সভা। মধুমতি নদীর ভাঙনে হরেকৃষ্ণপুরে চরম আতঙ্ক, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি। কপিলমুনিতে বেহাল সড়ক, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও পথচারী ১৫০ গজের সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে একাকার বন্ধুত্বের ফাঁদে ডেকে নিয়ে অপহরণ, মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ; অভয়নগরে থানায় লিখিত অভিযোগ গভীর রাতে শীর্ষ মাদক কারবারিদের বৈঠক জামায়াতের গণমিছিল ও পথসভা ভারতের সাথে চুক্তি করে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। দিঘলিয়ায় ট্রাকের চাপায় একই পরিবারের তিনজন নিহত, আশঙ্কাজনক স্বামী

কপিলমুনিতে বেহাল সড়ক, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও পথচারী ১৫০ গজের সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে একাকার

**মো: আল-মাহফুজ শাওন **
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি উপশহরের প্রাণকেন্দ্রে জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির মোড় সংলগ্ন প্রায় ১৫০ গজ দৈর্ঘ্যের এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শত শত শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন স্থানীয়দের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির দুই পাশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় এর গুরুত্ব দিন দিন বেড়েছে। প্রধান সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কপিলমুনি কলেজ সড়কের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এ পথটি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচলের অন্যতম মাধ্যম। অথচ সড়কটির অধিকাংশ অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পুরো সড়ক কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকার কারণে গর্তগুলো সহজে বোঝাও যায় না। ফলে পথচারী ও যানবাহন চালকদের অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বিশেষ করে কপিলমুনি কলেজসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহার করেন। বৃষ্টির দিনে কাদাপানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে হয়। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোও সম্ভব হয় না। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগের হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সড়কের দুই পাশে রয়েছে আবাসিক ভবন, একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান, ডিলার পয়েন্ট, গ্রামীণ ব্যাংক, পানির প্লান্ট, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন পণ্যের গুদামঘরসহ একটি মুরগির হাট। ফলে প্রতিদিন এ সড়কে পথচারী ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে এসব যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও নানা ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। সড়কটি সংস্কারের জন্য বারবার দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।”

তাদের দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পথচারীসহ কপিলমুনি এলাকার হাজারো মানুষের দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও গতিশীল হবে।

এ বিষয়ে কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জানান, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সত্যিই চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে বর্তমানে সড়কটি মেরামতের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বরাদ্দের অপেক্ষায় দীর্ঘদিন ফেলে না রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং সড়কটি সংস্কারের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page