মোঃইকরামুল হাসান হৃদয়
বিশেষ প্রতিনিধি মাগুুরা
মাগুরার মহম্মদপুর হরেকৃষ্ণপুর এলাকায় মধুমতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির প্রবল স্রোত ও তীব্র ভাঙনের কারণে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, আবাদি জমি, গাছপালা এবং গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ। দীর্ঘদিনের বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরেই নদীর ভাঙন আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও নদীর পাড় ধসে পড়ছে। মুহূর্তের মধ্যেই নদীর গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে মানুষের বহু বছরের কষ্টে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে নিজেদের ঘর খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। আবার অনেকেই অর্থের অভাবে সবকিছু হারানোর আশঙ্কায় অসহায় হয়ে দিন পার করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, শুধু বসতবাড়িই নয়, নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের একমাত্র জীবিকার উৎস ফসলি জমি। জমি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে জীবন চলবে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন তারা। অনেকের ভাষায়, নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে পুরো এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙনের সমস্যা থাকলেও স্থায়ী সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা, নদীতীর সংরক্ষণ এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার কথা জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া এবং ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
বর্তমানে হরেকৃষ্ণপুরের নদীপাড়জুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক। প্রতিদিন নদীর ভাঙনের শব্দ শুনে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাদের একটাই দাবি—মধুমতি নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের বসতভিটা, কৃষিজমি এবং জীবিকা রক্ষা করা হোক।