সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
Headline :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধে ভোলায় সচেতনতামূলক আলোচনা সভা। মধুমতি নদীর ভাঙনে হরেকৃষ্ণপুরে চরম আতঙ্ক, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি। কপিলমুনিতে বেহাল সড়ক, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও পথচারী ১৫০ গজের সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে একাকার বন্ধুত্বের ফাঁদে ডেকে নিয়ে অপহরণ, মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ; অভয়নগরে থানায় লিখিত অভিযোগ গভীর রাতে শীর্ষ মাদক কারবারিদের বৈঠক জামায়াতের গণমিছিল ও পথসভা ভারতের সাথে চুক্তি করে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। দিঘলিয়ায় ট্রাকের চাপায় একই পরিবারের তিনজন নিহত, আশঙ্কাজনক স্বামী শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ফেসবুকে ভাইরাল মো: আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা: শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে খুলনায় দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগ। ব্যতিক্রমী এ মানবিক কর্মসূচির বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) আগস্টের প্রথম প্রহরে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বলেন, আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে গভীর শোক ও বেদনার মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেই শোকাবহ ঘটনার স্মরণে আগস্টের প্রথম প্রহর থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। তারা বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে শোক পালন নয়, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েও বঙ্গবন্ধুর মানবিক আদর্শকে ধারণ করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই আগস্টের প্রথম প্রহরে দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় নেতাকর্মীরা অসহায় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। এ সময় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে ভবিষ্যতেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। এদিকে কর্মসূচির বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশের পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই পোস্টগুলো শেয়ার ও মন্তব্য করে কর্মসূচির প্রশংসা করেন। মানবিক এ উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। খাদ্যসামগ্রী পেয়ে কয়েকজন অসহায় ব্যক্তি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, সংকটের সময়ে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পাওয়া তাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির কারণ হয়েছে। কর্মসূচিতে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, শোকাবহ আগস্টজুড়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা করা এবং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণ করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

মো: ইসরাফিল হোসেন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই একটি দৃশ্য দেখা যায়। কোনো জাতীয় দলের খেলোয়াড় বা শীর্ষ ক্লাবের ফুটবলার খ্যাপ খেলেছেন..ব্যস, শুরু হয়ে যায় বিদ্রুপ, উপহাস আর সমালোচনা। যেন তিনি ভয়াবহ কোনো অপরাধ করে ফেলেছেন।

কিন্তু একটি প্রশ্ন কি আমরা কখনও নিজেদের করেছি?

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এমন কতজন খেলোয়াড় আছেন, যারা কখনও খ্যাপ খেলেননি?

উত্তরটি খুবই কঠিন। কারণ বাস্তবতা হলো, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রায় সব প্রজন্মের অসংখ্য খ্যাতিমান ফুটবলার, জাতীয় দলের তারকা, বড় ক্লাবের অধিনায়ক, কিংবদন্তি খেলোয়াড়, ক্যারিয়ারের কোনো না কোনো সময় খ্যাপ খেলেছেন। তাহলে আজকের খেলোয়াড়দের নিয়ে এত বিস্ময় কেন?

সমালোচনা করতে হলে পুরো ছবিটা দেখতে হবে।

বাংলাদেশে একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ নয়। সবাই কোটি টাকার চুক্তিতে খেলেন না। অনেকের আয় মৌসুমি, অনেক সময় বেতন নিয়েও অনিশ্চয়তা থাকে। ক্যারিয়ার শেষ হলে অধিকাংশ খেলোয়াড়ের জন্য কোনো নিশ্চিত পেনশন নেই, নেই আর্থিক নিরাপত্তার শক্ত ভিত্তি। পরিবার, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা, সবকিছুর দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হয়। সেই বাস্তবতায় একটি খ্যাপ ম্যাচ অনেক সময় বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন।

আরেকটি দিক আছে, যা শহরে বসে অনেকেই বুঝতে চান না।

নিজের জন্মস্থান, নিজের উপজেলা বা গ্রামের মানুষ যখন অনুরোধ করেন..একটা ম্যাচ খেলতে হবে, আপনাকে একবার মাঠে চাই, তখন সেটি শুধু একটি ম্যাচ থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে নিজ এলাকার মানুষের ভালোবাসার প্রতি সম্মান। একজন জাতীয় দলের খেলোয়াড় মাঠে নামলে হাজারো শিশু প্রথমবার কাছ থেকে একজন তারকাকে দেখে, ফুটবলকে নতুন করে ভালোবাসতে শেখে। সেই আনন্দের মূল্যও কম নয়।

অবশ্যই এর ঝুঁকি আছে। চোট লাগতে পারে, ক্লাব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হতে পারে। পেশাদার ফুটবলে এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং খেলোয়াড়দের তা সম্মান করা উচিত। কেউই আইনি বা চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা অমান্য করার পক্ষে থাকতে পারেন না।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, সমস্যার মূল কোথায়?

সমস্যা কি শুধু সেই খেলোয়াড়, যিনি খ্যাপ খেললেন? নাকি সেই ব্যবস্থায়, যেখানে অনেক ফুটবলার এখনো পর্যাপ্ত আর্থিক নিরাপত্তা, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সুবিধা বা সারা বছরের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ পান না?

আমরা যদি সত্যিই চাই বাংলাদেশের পেশাদার ফুটবলাররা খ্যাপ না খেলুক, তাহলে তাদের এমন পরিবেশ দিতে হবে, যেখানে অতিরিক্ত আয়ের জন্য বা সামাজিক চাপের কারণে এই পথে যেতে না হয়। উন্নত চুক্তি, সময়মতো পারিশ্রমিক, বীমা, খেলোয়াড় কল্যাণ তহবিল এবং শক্তিশালী লিগ কাঠামো, এসব নিশ্চিত করাই হবে স্থায়ী সমাধান।

কীবোর্ডের আড়াল থেকে একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে হাসাহাসি করা খুব সহজ। কিন্তু তার জীবনের বাস্তবতা বোঝা অনেক কঠিন।

তাই সমালোচনা করুন, কিন্তু ইতিহাস জেনে করুন। প্রশ্ন তুলুন, কিন্তু প্রেক্ষাপট বুঝে তুলুন। কারণ একজন ফুটবলার শুধু ৯০ মিনিটের খেলোয়াড় নন,তিনি একজন মানুষ, একজন পরিবারের উপার্জনকারী এবং আমাদের ফুটবল সংস্কৃতিরই একটি অংশ।

খ্যাপ খেলার সংস্কৃতি একদিনে তৈরি হয়নি। এটি শেষও হবে না শুধু মাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রুপ করে। এর সমাধান হবে তখনই, যখন বাংলাদেশের ফুটবল এমন একটি পেশাদার কাঠামো গড়ে তুলবে, যেখানে একজন খেলোয়াড়কে আর প্রয়োজনের তাগিদে নয়, শুধুই নিজের স্বপ্নের জন্য ফুটবল খেলতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page

শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ফেসবুকে ভাইরাল মো: আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা: শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে খুলনায় দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগ। ব্যতিক্রমী এ মানবিক কর্মসূচির বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) আগস্টের প্রথম প্রহরে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বলেন, আগস্ট বাঙালি জাতির ইতিহাসে গভীর শোক ও বেদনার মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেই শোকাবহ ঘটনার স্মরণে আগস্টের প্রথম প্রহর থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। তারা বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে শোক পালন নয়, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েও বঙ্গবন্ধুর মানবিক আদর্শকে ধারণ করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই আগস্টের প্রথম প্রহরে দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় নেতাকর্মীরা অসহায় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। এ সময় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে ভবিষ্যতেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। এদিকে কর্মসূচির বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশের পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই পোস্টগুলো শেয়ার ও মন্তব্য করে কর্মসূচির প্রশংসা করেন। মানবিক এ উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। খাদ্যসামগ্রী পেয়ে কয়েকজন অসহায় ব্যক্তি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, সংকটের সময়ে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পাওয়া তাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির কারণ হয়েছে। কর্মসূচিতে খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, শোকাবহ আগস্টজুড়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা করা এবং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণ করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।