মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন
Headline :
বসতবাড়ি ও আবাসিক ভবন থেকে দুটি পদ্মগোখরা উদ্ধার, নিরাপদে অবমুক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধে ভোলায় সচেতনতামূলক আলোচনা সভা। মধুমতি নদীর ভাঙনে হরেকৃষ্ণপুরে চরম আতঙ্ক, বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি। কপিলমুনিতে বেহাল সড়ক, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও পথচারী ১৫০ গজের সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে একাকার বন্ধুত্বের ফাঁদে ডেকে নিয়ে অপহরণ, মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ; অভয়নগরে থানায় লিখিত অভিযোগ গভীর রাতে শীর্ষ মাদক কারবারিদের বৈঠক জামায়াতের গণমিছিল ও পথসভা ভারতের সাথে চুক্তি করে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। দিঘলিয়ায় ট্রাকের চাপায় একই পরিবারের তিনজন নিহত, আশঙ্কাজনক স্বামী

গভীর রাতে শীর্ষ মাদক কারবারিদের বৈঠক

মো: গোলাম কিবরিয়া
রাজশাহী জেলা প্রতিদি

রাজশাহী নগরীতে গভীর রাতে কথিত মাদক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ওয়ারেন্টভুক্ত ও মাদক মামলার আসামিদের প্রকাশ্যে চলাফেরার বিষয়টি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও নজরদারি নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই রাত প্রায় ৯টার দিকে নগরীর অলকার মোড়ে অবস্থিত মাস্টার শেফ রেস্টুরেন্টে গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা ও একাধিক মাদক মামলার আসামি আব্দুর রহিম টিপু, জসিম এবং ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেনকে একসঙ্গে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাদের মধ্যে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে টিপু ও জসিমকে দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, মোশারফ হোসেন টিপুর ব্যবসায়িক অংশীদার এবং হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে গভীর রাতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের উদ্দেশ্য, কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিংবা সেখানে আর কারা উপস্থিত ছিলেন- এসব বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহিম টিপুর বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি পলাতক। ২০১৭ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রাজশাহীর শীর্ষ ১৫ তালিকাভুক্ত মাদক কারবারির তালিকায় তাঁর নাম ছিল। এছাড়া সর্বশেষ গত ৭ মে ৪ কেজি ৩০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের একটি মামলাতেও তাঁকে আসামি করা হয়েছে। তাঁর দুই ভাই মেহেদী হাসান ও সোহেল রানার বিরুদ্ধেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত প্রায় ১৭ বছরে পরিবারটির সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তাদের দাবি, বর্তমানে রাজশাহী শহরের আলীগঞ্জে বহুতল ভবন ও মার্কেট, নিউমার্কেট ও সাহেববাজারে একাধিক দোকান, গোদাগাড়ীতে খামার, মাদারপুরে একাধিক বাড়ি, বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি এবং বিভিন্ন যানবাহনের মালিক তারা।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একাধিক মামলার আসামি ও পলাতক ব্যক্তিরা যদি প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে পারেন, তাহলে তাদের গ্রেপ্তারে বাধা কোথায়? তারা ভাইরাল ভিডিওটির তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘‘টিপু ও জসিমের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। শুধু তাদের নয়, তালিকাভুক্ত সব মাদক ব্যবসায়ীকেই আমরা খুঁজছি। তাদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’’

তবে ভাইরাল ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা
রাজশাহী নগরীতে গভীর রাতে কথিত মাদক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ওয়ারেন্টভুক্ত ও মাদক মামলার আসামিদের প্রকাশ্যে চলাফেরার বিষয়টি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও নজরদারি নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page