**মো: আল-মাহফুজ শাওন **
যশোরের অভয়নগরে পারিবারিক কলহের জেরে মেয়ের শিলের নোড়ার আঘাতে সাহানা বেগম (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়ে শিরিনা খাতুনকে (২০) আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মশরহাটি গ্রামের ভাঙ্গাগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাহানা বেগম বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা গ্রামের ছাত্তার মণ্ডলের মেয়ে। তিনি স্বামী জহুরুল ইসলাম ও মেয়ে শিরিনা খাতুনকে নিয়ে অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি গ্রামের ভাঙ্গাগেট এলাকায় নাজমুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মা-মেয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মেয়ে শিরিনা খাতুন ঘরে থাকা শিলের নোড়া দিয়ে তার মা সাহানা বেগমের মাথা ও মুখে সজোরে আঘাত করেন।
এতে সাহানা বেগম গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে বাড়ির মালিক নাজমুল ইসলাম সোহেলের স্ত্রী ডলি খাতুন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার আগেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকের বক্তব্য
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মরিয়ম মুনমুন বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে স্থানান্তরের আগেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তার মৃত্যু হয়।
অভিযুক্ত মেয়ে আটক
অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়ে শিরিনা খাতুনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পারিবারিক কলহের জেরে মর্মান্তিক এ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।