মো: আল-মাহফুজ শাওন
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় স্বামীকে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা **৯৯৯**-এ ফোন পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত **২৭ জুলাই ২০২৬ (সোমবার) রাত প্রায় ১১টার দিকে** নড়িয়া থানার আচুড়া গ্রামের আজিজ ঢালীর বাগান থেকে এক ব্যক্তি ৯৯৯-এ ফোন করে জানান, কয়েকজন দুর্বৃত্ত এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে একজন নারীকে নির্যাতন করছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ থেকে বিষয়টি নড়িয়া থানাকে জানানো হয়।
৯৯৯-এর কলটি গ্রহণ করেন কনস্টেবল **বিল্লাল হোসেন** এবং পুরো অভিযানের সময় কলারের সঙ্গে ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করেন পুলিশ ডিসপ্যাচার **এসআই মো. মিজানুর রহমান**।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগীর প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, তার স্বামী **রাজিব আহমেদ খানকে** পরিচিত ব্যক্তি **হযরত আলী খন্দকার** মোবাইল ফোনে আজিজ ঢালীর বাগানে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর হযরত আলী খন্দকার, **রাব্বি**, **ইমন খন্দকার** এবং আরও কয়েকজন মিলে তাকে বেঁধে ফেলে।
এরপর দুর্বৃত্তরা রাজিবকে তার স্ত্রী **ফারজানা আক্তার ফেন্সি (২৫)**-কে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বাধ্য করে। পরে আটিপাড়া এলাকা থেকে অটোরিকশায় করে ফারজানাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়। সেখানে স্বামীকে মারধরের পর অভিযুক্তদের মধ্যে হযরত আলী খন্দকার ও মো. রাব্বি তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
পুলিশের অভিযান
৯৯৯-এর তথ্যের ভিত্তিতে নড়িয়া থানার সার্কেল অফিসার **মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ**, অফিসার ইনচার্জ **মো. বাহার মিয়া**, ভোজেশ্বর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের **এসআই (নি.) জোবায়ের হোসেন** এবং সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী দম্পতিকে উদ্ধার করেন।
পরে আহত নারীকে চিকিৎসার জন্য **শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে** পাঠানো হয়। একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
– **হযরত আলী খন্দকার (৪২)**, পিতা: আব্দুল হাই খন্দকার, আটিপাড়া, পালং, শরীয়তপুর।
– **মো. রাব্বি (২৮)**, পিতা: মৃত আলমগীর বেপারী, আচরা, নড়িয়া, শরীয়তপুর।
– **ইমন খন্দকার (২৬)**, পিতা: মালেক খন্দকার, আচরা, নড়িয়া, শরীয়তপুর।
মামলা ও পরবর্তী ব্যবস্থা
এ ঘটনায় নড়িয়া থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।