মোঃইকরামুল হাসান
বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরাঃ
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও জনবহুল এলাকায় হাতি নিয়ে ঘুরে ঘুরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই মাহুত হাতিসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দোকানদার, পথচারী এবং যানবাহন চালকদের কাছে টাকা দাবি করছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরক্তি ও অসন্তোষ বাড়ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অনেক সময় হাতিটিকে দোকানের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ফলে ব্যবসায়ীরা ঝামেলা এড়াতে কিংবা ভয়ে টাকা দিতে বাধ্য হন। একই অভিযোগ করেছেন সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালকরাও। তাদের ভাষ্য, হাতি সামনে এনে বা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অর্থ চাওয়া হয়, যা অনেকের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে পরিচিত হাতি কীভাবে জনবহুল এলাকায় নিয়মিত ঘুরে বেড়িয়ে অর্থ সংগ্রহ করছে? হাতিটি বৈধভাবে নিবন্ধিত কি না, এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করছে কি না—এসব প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে কিছু হাতি বৈধভাবে নিবন্ধিত অবস্থায় পালন করা হলেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত প্রাণীকে অবৈধভাবে ব্যবহার, নির্যাতন বা আইনবহির্ভূত কাজে লাগানো দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, যদি কোনো ব্যক্তি আইন লঙ্ঘন করে বন্যপ্রাণী ব্যবহার করে অর্থ আদায় করে থাকেন, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তারা বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।