শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৬ অপরাহ্ন
Headline :
খুলনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবলীগ কর্মী নিহত বেলিংহামের শৈশবের ক্লাব বার্সা জয় গ্যালারিতে বসে উপভোগ করলেন। যশোরে আওয়ামী লীগ নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল সাপাহারে প্রেসিডেন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গ্র্যান্ড ওপেনিং অনুষ্ঠিত কেসিসির প্রতিবাদ: সমকাল ২৮ জুলাই ও মানবজমিন ২৯ জুলাইয়ে প্রকাশিত ‘কোটেশন’ ও ‘টেন্ডার ছাড়া কাজ’ সংক্রান্ত সংবাদ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অভয়নগর প্রেমবাগ ইউনিয়ন বিএনপি থেকে তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাগুরায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মসজিদে কমিটির সভাপতি আটক রাজশাহী মহানগরীতে সাংবাদিকে এলোপাথাড়ি ভাভে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা 

কেসিসির প্রতিবাদ: সমকাল ২৮ জুলাই ও মানবজমিন ২৯ জুলাইয়ে প্রকাশিত ‘কোটেশন’ ও ‘টেন্ডার ছাড়া কাজ’ সংক্রান্ত সংবাদ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর

**মো: আল-মাহফুজ শাওন**
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) জরুরি উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ নিয়ে জাতীয় দৈনিক **দৈনিক সমকাল** ও **দৈনিক মানবজমিনে** প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কেসিসি কর্তৃপক্ষ। কেসিসির দাবি, প্রকাশিত সংবাদে কোটেশন পদ্ধতিতে কাজ দেওয়া, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই কাজ বাস্তবায়ন, ক্রয়বিধিমালা অনুসরণ না করা এবং কাজ ভাগ-বাটোয়ারার যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গত **২৮ জুলাই ২০২৬** তারিখে দৈনিক সমকালের প্রথম পাতায় **‘জরুরি ঠিকাদারী কাজ পান শুধু প্রশাসকের অনুসারীরা’** শিরোনামে এবং **২৯ জুলাই ২০২৬** তারিখে দৈনিক মানবজমিনের শেষ পাতায় **‘খুলনায় টেন্ডার ছাড়া কেসিসি’র শতাধিক কাজ ভাগ বাটোয়ারা’** শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদ দুটির সংশ্লিষ্ট বিষয় কেসিসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলে এর প্রতিবাদ জানানো হয়।

কেসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে ‘কোটেশনে’ কাজ দেওয়ার যে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও মনগড়া। বর্তমান প্রশাসক **নজরুল ইসলাম মঞ্জু** দায়িত্ব গ্রহণের পর এ পর্যন্ত কেসিসিতে একটি কাজও কোটেশন পদ্ধতিতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

### কোটেশন নয়, ডিপিএম পদ্ধতিতে জরুরি কাজ

কেসিসির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নগরবাসীর জরুরি দুর্ভোগ লাঘবের জন্য যেসব কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে কোটেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। বরং সরকারি **পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) ২০২৫** অনুসরণ করে জরুরি কিছু কাজ **ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম)** বা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, পিপিআর ২০২৫-এর তপশিল-২-এর ৯৯(১)(ড) ধারায় সরাসরি চুক্তির আওতায় উন্নয়ন বাজেটে অধিদপ্তর বা সংস্থার সদর দপ্তরের ক্ষেত্রে প্রতিটি কাজে অনধিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের বিধান রয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবের অনুমোদনক্রমে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের সুযোগ রয়েছে বলেও কেসিসির প্রতিবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেসিসি বলছে, সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করেই নগরবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে অতি জরুরি হিসেবে বিবেচিত কিছু ছোট সড়ক ও গলি সংস্কারকাজ নেওয়া হয়েছে।

### ডিপিএম পদ্ধতিতে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির বাধ্যবাধকতা নেই

প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোটেশন আহ্বানের বিজ্ঞপ্তি কেসিসির ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে দেওয়া হয়নি বলে যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে কেসিসি।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কাজগুলো কোটেশন পদ্ধতিতে দেওয়া হয়নি। এগুলো ডিপিএম পদ্ধতিতে জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ফলে কোটেশন আহ্বানের বিজ্ঞপ্তি ওয়েবসাইট বা নোটিশ বোর্ডে প্রকাশের প্রশ্নও এখানে প্রযোজ্য নয়।

কেসিসির দাবি, ডিপিএম পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত কাজের ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট অথবা নোটিশ বোর্ডে কোটেশন আহ্বানের বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

### ছোট গলির উন্নয়ন হয়নি, বেড়েছে জনদুর্ভোগ

কেসিসির প্রতিবাদে নগরীর সড়ক ব্যবস্থাপনার পুরোনো সমস্যার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিগত সরকারের সময়ে খুলনা মহানগরীতে বিভিন্ন নির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় বড় বড় সড়ক ও ড্রেনের উন্নয়নকাজ করা হলেও নগরীর ছোট ছোট গলি ও অভ্যন্তরীণ সড়কের অনেকগুলো উন্নয়নের বাইরে ছিল।

এর পাশাপাশি খুলনা ওয়াসা কর্তৃক স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপনের জন্য নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও গলি খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। এতে নগরীর অনেক ছোট সড়ক ও গলি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কের দুরবস্থার কারণে নগরবাসীর ভোগান্তি আরও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছে কেসিসি।

### দীর্ঘ সময় জনপ্রতিনিধিশূন্য ছিল কেসিসি

কেসিসির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ সময় খুলনা সিটি কর্পোরেশন জনপ্রতিনিধিশূন্য থাকায় নগরবাসীর বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার যথাসময়ে সমাধান করা সম্ভব হয়নি।

বিশেষ করে ছোট গলি, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও স্থানীয় পর্যায়ের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো নিয়ে নগরবাসীর দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হয় বলে কেসিসির বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরবাসী তাদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যা নিয়ে কেসিসিতে লিখিত আবেদন করতে শুরু করেন। এর মধ্যে চলাচলের অনুপযোগী গলি ও সড়ক সংস্কারের দাবিও ছিল।

### নগরবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কারকাজ

কেসিসি জানায়, নগরবাসীর লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কম প্রশস্ত, ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী গলিগুলো অতি জরুরি বিবেচনায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এসব কাজের ক্ষেত্রে প্রতিটি কাজের ব্যয় **৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ** রেখে ডিপিএম পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কেসিসি।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, কাজগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল নগরবাসীর দীর্ঘদিনের চলাচলের দুর্ভোগ দ্রুত লাঘব করা। বিশেষ করে যেসব গলি ও ছোট সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন, সেসব সড়কের জরুরি সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

### তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজ

কেসিসির দাবি, ডিপিএম পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত কাজগুলো কেসিসির তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি কাজ নির্ধারিত বরাদ্দের মধ্যে রেখে বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কেসিসির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এসব কাজের গুণগত মান নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি।

### ‘প্রশাসকের অনুসারীদের কাজ দেওয়া’র অভিযোগ অস্বীকার

দৈনিক সমকালে প্রকাশিত ‘জরুরি ঠিকাদারী কাজ পান শুধু প্রশাসকের অনুসারীরা’ শিরোনামের প্রতিবেদনের বিষয়টিও অস্বীকার করেছে কেসিসি।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কাজগুলো কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রশাসকের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে দেওয়া হয়নি। কেসিসির তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ফলে ‘প্রশাসকের অনুসারীরা’ কাজ পেয়েছেন—এমন বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

### ‘টেন্ডার ছাড়া কাজ ভাগ-বাটোয়ারা’র অভিযোগেও প্রতিবাদ

দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত **‘খুলনায় টেন্ডার ছাড়া কেসিসি’র শতাধিক কাজ ভাগ বাটোয়ারা’** শিরোনামের প্রতিবেদন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে কেসিসি।

কর্তৃপক্ষ বলছে, জরুরি প্রয়োজনের কারণে যেসব কাজ ডিপিএম পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, সেগুলোকে ‘টেন্ডার ছাড়া কাজ ভাগ-বাটোয়ারা’ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। কারণ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো কোটেশন পদ্ধতিতেও দেওয়া হয়নি এবং জরুরি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি বিধান অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি কেসিসির।

### কেসিসির দাবি—সংবাদে প্রকৃত প্রেক্ষাপট উঠে আসেনি

কেসিসি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ, ছোট গলির বেহাল অবস্থা এবং ওয়াসার স্যুয়ারেজ কাজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই জরুরি সংস্কারকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু জাতীয় পর্যায়ের দুটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব কাজের প্রকৃত প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং ‘কোটেশন’, ‘টেন্ডার ছাড়া কাজ’, ‘ভাগ-বাটোয়ারা’ এবং ‘প্রশাসকের অনুসারীদের কাজ দেওয়া’—এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে বিষয়টি বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কেসিসি।

### তীব্র প্রতিবাদ ও তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান

কেসিসি কর্তৃপক্ষ বলেছে, নগরবাসীর জরুরি দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সরকারি ক্রয়বিধির আওতায় থেকে নেওয়া সংস্কার উদ্যোগকে ভুলভাবে উপস্থাপন করায় প্রকাশিত সংবাদ দুটির সংশ্লিষ্ট অংশের **তীব্র প্রতিবাদ** জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কেসিসি সংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং সরকারি নথি ও বিধিবিধান যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে কেসিসি।

কর্তৃপক্ষের দাবি, নগরবাসীর স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে নেওয়া এসব সংস্কারকাজকে কোনোভাবেই কোটেশন বা অনিয়মের আওতায় ফেলা উচিত নয়। প্রচলিত সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা **অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত**।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page