মোঃইকরামুল হাসান হৃদয়
বিষেশ প্রতিনিধি মাগুরা
‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চলছে! মহম্মদপুরের শিক্ষিকা মুক্তা পারভীনের মা-মলা বিষয়ে। অনুসন্ধানে ঘটনার অন্তরালে প্রকৃত সত্য ও কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য জানা গেছে মহম্মদপুর আইডিয়াল একাডেমির প্রধান শিক্ষিকা মোছা. মুক্তা পারভীনের বি-রুদ্ধে একটি মা-মলা দা-য়ের এবং তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ঘটনাটি আজ মহম্মদপুরের সচেতন মহলে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচিত হচ্ছে। একটি ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন তার পেছনের সঠিক তথ্য ও উভয় পক্ষের বক্তব্য জানা নাগরিক ও সংবাদকর্মী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। সেই পেশাদার তাগিদ থেকেই ঘটনার অনুসন্ধানে যে প্রকৃত চিত্রটি সামনে এসেছে,
মা-মলার বা’দী সাব্বির রহমান (যিনি পূর্বে উক্ত স্কুলেই শিক্ষকতা করতেন) অ-ভিযোগ করেছেন যে, কাতার যাওয়ার পর কাজ পছন্দ না হওয়ায় ১০ মাস সেখানে অবস্থান করে তিনি দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে প্রবাসে যাওয়ার জন্য দেওয়া টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি এই মা-মলা দা-য়ের করেন।
অন্যদিকে, বি-বাদী প্রধান শিক্ষিকা মুক্তা পারভীনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি কোনো “মা-নব পা-চার” নয়, বরং এটি একটি আর্থিক লেনদেনজনিত বি-রোধ।
মুক্তা পারভীন জানান,
তার স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে সাব্বির রহমানকে সম্পূর্ণ বৈ’ধ উপায়ে কাতারের ভিসা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে যাওয়ার পর তিনি বৈ-ধভাবে ‘আকামা’ (কাজের অনুমতিপত্র) পেয়েছিলেন এবং দীর্ঘ ১০-১১ মাস কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে সেখানে কাজ পছন্দ না হওয়ায় তিনি নিজের ইচ্ছায় দেশে ফিরে আসেন।
মুক্তা পারভীন আরও স্পষ্ট করেন যে, কাতার যাওয়ার জন্য সাব্বির ৪ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন, যা প্রবাসে থাকা স্বামীর পক্ষে মুক্তা পারভীন গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর সাব্বির অন্যায্যভাবে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করছেন। এই অ-তিরিক্ত দেড় লক্ষ টাকার বি-রোধ ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করেই মূলত এই উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং প্রাক্তন সহকর্মীদের (যেমন: মরিয়ম খানম শান্তা) মতে, মুক্তা পারভীন দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা জীবনে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান, দায়িত্বশীল এবং মানবিক একজন মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিলে তিলে গড়া এই সামাজিক সম্মানকে একটি আর্থিক ও ভিসা সংক্রান্ত বি-রোধের মা-মলাকে কেন্দ্র করে ঢালাওভাবে ভিন্ন রূপে প্রচার করা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।
যেকোনো নাগরিকের বি-রুদ্ধে অ-ভিযোগ বা মা-মলা হতেই পারে এবং তার সত্য-মিথ্যা ও আইনি ফয়সালা করার একক এখতিয়ার মহামান্য আদালতের। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আদালতে দো’ষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত যে কোনো নাগরিককে নি-র্দোষ হিসেবে গণ্য করার অধিকার রয়েছে। তদন্ত বা আদালতের রায়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একতরফাভাবে কাউকে অ-পরাধী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেওয়া কোনো সুস্থ ও বস্তুনিষ্ঠ সমাজ চেতনার অংশ হতে পারে না।
আমরা আশা করি আইনি প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য ও ন্যা-য়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। আসুন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য করার আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করি এবং দায়িত্বশীল আচরণ করি।