লুৎফর সিকদার. গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে নেশার টাকা না পেয়ে সোনিয়া বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে, মাথার চুল কেটে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রাতভর নির্যাতন করার অভিযোগে তার মাদকাসক্ত স্বামী নাজমুল শেখকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ।
১৩ জুলাই সোমবার রাতে মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের গয়লাকান্দি গ্রামে এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে।ঘটনাটির ও অভিযুক্ত স্বামী নাজমুল শেখ নিয়মিত নেশা করতেন এবং ঘটনার রাতে স্ত্রীর কাছে নেশার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
নাজমুল ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে তার স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে ফেলেন। এরপর ৮ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশু সন্তানের সামনেই স্ত্রীর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠে কুপিয়ে জখম করে রাতভর নির্যাতন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ভুক্তভোগী গৃহবধূর চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন। সিন্দ্রিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের তালা ভেঙে গৃহবধূ ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি গুরুতর আহত সোনিয়াকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত স্বামী নাজমুল শেখকে আটক করে মুকসুদপুর থানায় পাঠিয়েছে।অভিযুক্তের পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর নাজমুল দাবি করেন, তার স্ত্রী যেন তাকে ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্যই তিনি তার হাত-পা বেঁধে ও চুল কেটে রেখেছিলেন।
স্থানীয় গোহালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে নাজমুল একজন চিহ্নিত মাদকসেবী এবং সে প্রায়ই মাদক সেবন করে স্ত্রীকে মারধর করত।
সিন্দ্রিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গজেব জানিয়েছেন, এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।